ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সরকারি কম্বল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার ধোপাপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মাত্র ১৮টি কম্বল বিতরণকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন—জিউপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আনসার আলী (৫৪), তাঁর ছেলে সৌমিক হাসান (২৪), দেলোয়ার হাসান (২৫) ও সাব্বির হাসান (১৪)। আনসার আলীর স্ত্রী শামীমা বেগম (৪৫) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। অন্য আহতদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য বেলাল হোসেন, এমরান আলী, শামীম হোসেন, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক রনি ইসলাম এবং বাবু, আনোয়ার, আকরাম ও হান্নান।
আহত আনসার আলী অভিযোগ করেন, ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুকনাজ বেগম তাঁকে কয়েকজন শীতার্ত মানুষ নিয়ে আসতে বললেও ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আরজ আলী একাই সব কম্বল বুঝে নিয়েছেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আরজ আলী ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর ছেলে সৌমিকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
অন্যদিকে, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আরজ আলী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, কম্বল বিতরণ নিয়ে আলোচনা চলাকালে আনসার আলীর পক্ষ থেকেই তাঁর ওপর হামলা করা হয়। পরে উভয় পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুকনাজ বেগম বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে তিনি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির ওপর নির্ভর করেছিলেন। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।