মদনে পানি বাড়ায় হারভেস্টার বন্ধ, তেল ও শ্রমিক সংকটে পাকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক.

মোঃ আলম খান: নেত্রকোনা মদন উপজেলায় পানি বাড়ায় হারভেস্টার বন্ধ, তেল ও শ্রমিক সংকটে পাকা ধান নিয়ে বেকায়দায় কৃষক। হ্যান্ডটলি গাড়ি করে ধান পরিবহন করা হচ্ছে।

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বোরো ধান ঘরে তুলতে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না, হাওরে হারভেস্টার মেশিনের কোন ত্রুটি নেই, পর্যাপ্ত পরিমাণে হারভেস্টার মেশিন প্রতি ইউনিয়নে দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি হারভেস্টার মেশিনের জন্য ১০০ লিটার জ্বালানি তেল নির্ধারণ করা হয়। তার ওপর শ্রমিক ও জ্বালানি তেলের সংকটে পাকা ধান কাটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকের। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড অকাল বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে কৃষকদের।

মঙ্গলবার উচিতপুর হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরজুড়ে পাকা ধানের সোনালি শিষ দুলছে। কোথাও কোথাও শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা হলেও অনেক কৃষক শ্রমিকের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

হাওরে কথা হয় কুলিয়াহাটি গ্রামের কৃষক আলতাফবের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার ২০কাটা জমি বোরো ফসল আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু ফসল কর্তনে দুর্ভোগে পড়েছি। শ্রমিকের সংকটের কারণে যথাসময ধান কাটা যাচ্ছে না। ১ কাটা জমি প্রতি চৌদ্দশ থেকে ২০০০ হাজার টাকায় ধান কাটাতে হচ্ছে।

উচিতপুর গ্রামের কৃষক মোঃ শিপন মিয়া জানান, জমিতে পানি থাকায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। তেলের সংকটে পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। হ্যান্ডটলি গাড়ি দিয়ে ধান আনতে ২০ বস্তায় দুই বস্তা ভাড়া দিতে হচ্ছে।

কৃষক শাহীন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় কিছু ফসল ইতিমধ্যে নষ্ট হয়েছে। বাকি ধান কাটতে স্থানীয় ছয়-সাতজন শ্রমিক দিয়ে কাজ করছি। পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

রাজহালীকান্দা গ্রামের কৃষক ওয়াহেদ আলী বলেন, ‘তেল ও শ্রমিক সংকটের মধ্যে অকাল বন্যার শঙ্কা আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।’

মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান (মিজান) বলেন, ‘এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৪৪ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং হাওড়ে ৮২% কাটা হয়েছে। শ্রমিকের, সংকট রয়েছে। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় শতভাগ ধান কাটা হাওড়ে শেষ হতে পারে ।’ তিনি আরও বলেন, নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com