নিজস্ব প্রতিবেদক : নীলফামারীর জলঢাকায় ১১ বছরের এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে নৃশংসভাবে যৌন নির্যাতন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনে গুরুতর জখম হওয়া শিশুটিকে বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেূজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৩ আগস্ট সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে জলঢাকা থানার দক্ষিণ দেশীবাই (ডাক্তার পাড়া) এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা মোছাঃ রোজিনা বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত রিফাতকে (২০) প্রধান আসামি করে জলঢাকা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন
এজাহারের তথ্যমতে, স্থানীয় ব্র্যাক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র সুমন ইসলামকে (১১) ভুট্টা ক্ষেতের পাতা তোলার কথা বলে কৌশলে নির্জন স্থানে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় একই এলাকার মোঃ মোখলেছার রহমানের ছেলে রিফাত। সেখানে রিফাত শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সেভেন-আপের সাথে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করায়।
মাদকাসক্ত অবস্থায় শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে রিফাত তার ওপর অমানবিক যৌন নির্যাতন চালায়। এতে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং মলদ্বার ফেটে যায়। পরবর্তীতে শিশুটির জ্ঞান ফিরলে সে বাঁচার জন্য চিৎকার ও ধস্তাধস্তি শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিফাত লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করে এবং গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসা:
স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ও সম্ভাব্য শাস্তি
ভুক্তভোগী যেহেতু শিশু এবং তাকে নেশা খাইয়ে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, তাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী সাজা অত্যন্ত কঠোর।
অপরাধের ধরণ প্রাসঙ্গিক আইন ও ধারা সর্বোচ্চ শাস্তি
শিশুর ওপর যৌন নিপীড়ন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১০ ধারা অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যূন ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
মারাত্মক জখম করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এর ৪(২) ধারা অনধিক ১৪ বছর কিন্তু অন্যূন ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড।
অপ্রাকৃতিক যৌন অপরাধ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৭৭ ধারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড।
হত্যার চেষ্টা (খুনের উদ্যোগ)
ঘটনাটি সত্যতা যাচাই করতে গেলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০৭ ধারা অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড (আঘাতপ্রাপ্ত হলে শাস্তি যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে)।
ঘটনাটির সততা যাচাই করতে জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ ও তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের এসব জানান অভিযোগটি জলঢাকা থানা পুলিশ নিয়েছে, তারা বিষয়টি অঅত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। আসামি রিফাত ঘটনার পর থেকেই পলাতক বিষয়টি তদন্ত সাক্ষীপে সততা যাচাই করে আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।