রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন খরবোনা নদীর পাড় এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়াতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মোঃ মুস্তাকিন (২৫) নামে এক যুবকের ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে নগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মুস্তাকিন লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গত রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোঃ সৈকত পারভেজ ও তার সহযোগী মোঃ আলীসহ ৩৫-৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির গেট ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পাশের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় তার একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরে থাকা ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টেলিভিশন, প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা) ও ৪০ জোড়া কবুতর (প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্য) লুট করে নিয়ে যায়।
এছাড়া হামলাকারীরা তার পিতাকে মারধর করে এবং ছাগলের ঘর থেকে দুটি ছাগল নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুস্তাকিন আরও জানান, হামলার সময় তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শারমীনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, তার ভাই মোঃ আলামিন পূর্বে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির সঙ্গে মাদক বহনের কাজে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। সম্প্রতি অভিযুক্তরা তাকে পুনরায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেয় এবং অস্বীকৃতি জানালে চাঁদা দাবি করে। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি। পরে বোয়ালিয়া থানায় একাধিকবার যোগাযোগের পর প্রায় ৪০ মিনিট পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বর্তমানে হামলাকারীরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান মুস্তাকিন। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।