নাছিম আহমেদ ইকবাল : শিবপুর নরসিংদী উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ২টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত শিবপুর থানাধীন পুটিয়া ইউনিয়নের কারারচর শাহপুর এলাকায় জামাল উদ্দিন খোকা-এর অফিস ও বসত ঘরে- এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নরসিংদী আর্মি ক্যাম্পের ৯ সিগনাল ব্যাটালিয়নের সিইউ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নরসিংদী জেলা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানকালে উদ্ধার করা হয়—নগদ ১৫ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা, একটি একনলা বন্দুক, একটি স্টিলের পিস্তল, একটি প্লাস্টিকের রিভলভার, তিনটি খালি ম্যাগাজিন, দুইটি শটগানের কার্তুজ, একটি ব্যবহৃত পিস্তলের কার্তুজের খোসা, ১১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬০ গ্রাম ভাঙা-গুঁড়া ইয়াবা, একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, ৮ বোতল বিদেশি মদ, ৬টি ফেন্সিডিলের খালি বোতল, ১৩টি স্মার্টফোন, ৩টি বাটন ফোন এবং একটি পুরাতন নষ্ট ল্যাপটপ।
এ সময় গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ১. জামাল উদ্দিন খোকা (৭০) — সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের গডফাদার, পিতা: মো. মিজান মিয়াগ্রাম: কারারচর, থানা: শিবপুর, জেলা: নরসিংদী, ২. সেলিনা বেগম (৫০) স্বামী: জামাল উদ্দিন খোকা, ৩. সম্পা (২৪) স্বামী: শাহজালাল আহমেদ সানি গ্রাম: শাহাপুর৪. আলমগীর (৩৭) গ্রাম: জাঙ্গাইলা, ৫. শামসুন নাহার (৫০)গ্রাম: জাঙ্গাইলা ৬. আজিজুল মিয়া (৩২) গ্রাম: জাঙ্গাইলা, ৭. ফয়সাল মিয়া (২০)গ্রাম: জাঙ্গাইলা। গ্রেফতারকৃত সবাই শিবপুর থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত জামাল উদ্দিন খোকার বিরুদ্ধে একটি মামলা, আজিজুল মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা এবং মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। অপর গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো পিসি বা পিআর পাওয়া যায়নি।
প্রেস ব্রিফিং- এ ঘটনায় আলোকে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানা প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানের বিষয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী আর্মি ক্যাম্পের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামীমুর রহমান, টু-আই-সি মেজর মোঃ রায়হান,পুলিশ পুলিশ সুপার,আব্দুল্লাহ আল-ফারুক সহ সোনাবাহিনী ও নরসিংদী জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে নরসিংদী আর্মি ক্যাম্পের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামীমুর রহমান বলেন,“আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্র যেন জননিরাপত্তা ও ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনী পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। জনস্বার্থে নরসিংদী জেলা ব্যাপী এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশ সুপার নরসিংদী, আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, “শিবপুর থানায় মোট ১০১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং নরসিংদীতে কোনো সন্ত্রাসী বা অ;পরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।