মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা : রাজধানী ঢাকার পল্টন র্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ জনকে র্যাব কটি, হ্যান্ডকাফ ও মাইক্রোবাসসহ গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব বলছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো মো: জুয়েল বিশ্বাস, মো: আলামিন দুয়ারী ওরফে দিপু, সাজ্জাদ হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, বোরহান মিয়া প্রমুখ। এসময় তাদের হেফাজত থেকে র্যাব লেখা ৪টি কটি ও ৪টি ক্যাপ, র্যাবের ভুয়া আইডি কার্ড ৫টি, হ্যান্ডকাফ ২টি, ওয়াকিটকি সেট ২টি, পিস্তলের কভার ১টি, ব্যাটন স্টিক ১টি, অতিরিক্ত নম্বর প্লেট ২টি, স্মার্টফোন ৫টি, বাটন ফোন ৪টি, এয়ারপড ১টি, হ্যান্ড গ্লোভস ১ জোড়া, হাতঘড়ি ৪টি, নগদ ২০ হাজার ৪৫ টাকা এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত সিলভার-পার্ল রঙের মাইক্রোবাসটি উদ্ধারমূলে ও জব্দ করা হয়।
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তাপস কর্মকার সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকাল আনুমানিক পৌঁনে ৫টার দিকে এলিট ফোর্স র্যাব-১০, সিপিসি-১ যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, রাজধানীর পল্টন মডেল থানা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সদস্যদের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে তাদের মাইক্রোবাসটি আভিযানিক দলটি পল্টন মডেল থানার ভিআইপি রোড এলাকায় থামিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে মাইক্রোবাসে থাকা ৬ জন ব্যক্তি নিজেদের র্যাব পরিচয় প্রদান করে। এ সময় নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে তাদের আটক করে মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করা হলে র্যাব লেখা ৪টি কটি ও ৪টি ক্যাপ, র্যাবের ভুয়া আইডি কার্ড ৫টি, হ্যান্ডকাফ ২টি, ওয়াকিটকি সেট ২টি, পিস্তলের কভার ১টি, ব্যাটন স্টিক ১টি, অতিরিক্ত নম্বর প্লেট ২টি, স্মার্টফোন ৫টি, বাটন ফোন ৪টি, এয়ারপড ১টি, হ্যান্ড গেøাভস ১ জোড়া, হাতঘড়ি ৪টি, নগদ ২০ হাজার ৪৫ টাকা এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত সিলভার-পার্ল রঙের মাইক্রোবাসটি উদ্ধারমূলে ও জব্দ করা হয়।
র্যাব-১০ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা র্যাবকে জানান, শহিদ মাঝি, মামুন ও মিজানদের পরিকল্পনামতে আসামি মো: জুয়েল বিশ্বাস ও মো: আলামিন দুয়ারী ওরফে দিপুদ্বয় পূর্বেও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে দেশে বিভিন্ন স্থানে আসামি মো: আবুল কালাম আজাদ এর চালিত মাইক্রোবাস ব্যবহার করে ডাকাতি ও দস্যুতা করে আসছে। গত (০৯ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর অনুমানিক ২টার দিকে শহিদ মাঝি ও মামুন ফোন করে রাজধানীর পল্টনস্থ আনন্দ ভবনের সামনে বর্ণিত ওইস্হানে আসামিদের একত্রিত করে এবং মিজানের কথামতো আসামি মো: আবুল কালাম আজাদ একটি মাইক্রোবাস নিয়ে আসে। এছাড়া আসামিগণ উক্ত মাইক্রোবাসে উঠে এবং মাইক্রোবাসে মামুনের দেওয়া জব্দকৃত আলামত দেখতে পায়। পরবর্তীতে আসামিগণ মাইক্রোবাসে উঠে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় ডাকাতি করার পরিকল্পনা করে।
র্যাব-১০ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি মো: জুয়েল বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মোট ১৫টি মামলা, আলামিন দুয়ারী ওরফে দিপু এর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ মোট ১৫টি মামলা, সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মোট ০৬টি মামলা, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকসহ মোট ০৬টি মামলা এবং বোরহান মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক আইনের মোট ০৪টি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, অবৈধ অস্ত্রধারী চক্র, মাদক চোরাচালানসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ দমনে র্যাব নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সংস্থাটি আরো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া র্যাব পরিচয়ে সংঘটিত ডাকাতি, ছিনতাই সহ অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধ এর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরনের অপরাধ শুধুমাত্র জননিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং র্যাবের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। র্যাব ফোর্সেস এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং এসব প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনগণকে সচেতন থাকতে এবং সন্দেহজনক কোনো আচরণ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, আসামি মো: জুয়েল বিশ্বাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ১৬ লক্ষ টাকা ডাকাতি করে এবং উক্ত মামলায় সে গ্রেফতার হয়। এছাড়াও রাজধানী পল্টন থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক জনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ডাকাতি করে, যার ফলে ডিএমপি, ঢাকার পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা হয়। যার মামলা নং- ৪৩, তারিখ- ২৩/০৩/২০২৫ । গ্রেফতাকৃত জুয়েল বিশ্বাস চক্রটির নেতৃত্ব দিত। সে নতুন সদস্যদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ডাকাত দলে যুক্ত করত এবং ডাকাতিতে অংশ নিতে বাধ্য করত। গ্রেফতারকৃত জুয়েল বিশ্বাস গত (২৭ নভেম্বর ২০২৫) ও সাজ্জাদ হোসেন গত (২৯ নভেম্বর ২০২৫) এবং আবুল কালাম আজাদ গত দুই বছর পূর্বে জেল থেকে জামিনে বের হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আইনী প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেএলিট ফোর্স র্যাব।
এবিষয়ে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্হ র্যাব মিডিয়া সেন্টার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর, ঢাকার লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী, পিএসসি, জিডি (পি) সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন।