প্রিয়া খান: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি মাদকচক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইনজেকশনজাত মাদকদ্রব্য, যা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর থানার এসআই রফিকের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল মঙ্গলবার রাতের আঁধারে শ্যামগঞ্জ রেলগেট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত এ অভিযানে বিকাশ বিশ্বাস (পিতা: রতন বিশ্বাস), বাড়ি নেত্রকোনা জেলার পারলা এলাকায়—তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। এ সময় তার দখলে থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইনজেকশনভিত্তিক মাদক জব্দ করা হয়, যা প্রাথমিকভাবে অবৈধ মাদক হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্যামগঞ্জ রেলগেট এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক লেনদেনের একটি গোপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার পর থেকেই সেখানে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যেত, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ তৈরি করেছিল। পুলিশের এ অভিযানকে তারা স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অভিযানের মাধ্যমে শুধু একজনকে আটক করাই নয়, বরং একটি সক্রিয় মাদক সরবরাহ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলেও জানানো হয়।
পুলিশ আরও জানায়, সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানই পারে সমাজ থেকে মাদকের বিষবাষ্প দূর করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে। পাশাপাশি, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মাদকমুক্ত, নিরাপদ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে পুলিশের এ অভিযান নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।