কামরুল হাসান রনি : গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বহুল আলোচিত ব্যক্তি শহীদ মণ্ডল (ওরফে শহীদ মোল্লা)-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি হাউজিং প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অসংখ্য মানুষের জমি দখল ও আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন শহীদ মণ্ডল। অতীতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের অর্থদাতা (ডোনার) হিসেবে তার নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আগের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শহীদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ভূমি দখল, জবরদখল, প্রভাব বিস্তার, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শহীদ মণ্ডলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে গাছা থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, শহীদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।