রবিন চৌধুরী: পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একই ইউনিটে কর্মরত এক নারী উপ-পরিদর্শকের (এসআইয়ের সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ জুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ওই নারী পুলিশ সদস্য।
লিখিত অভিযোগে ওই নারী এসআই বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশনে মেহেদী হাসানের সঙ্গে একসঙ্গে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে মেহেদী হাসান তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিউটির দায়িত্ব দেন। তিনি অবিবাহিত হওয়ায় তার ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজও তাকে দিয়ে করাতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, তিন থেকে চার মাস আগে তার ঢাকা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখা থেকে ঢাকা এসবিতে বদলি হয়। পরে মেহেদী হাসান তদবির করে তাকে আবার ঢাকা ইমিগ্রেশনে ফিরিয়ে আনেন। এরপর তারা আবার একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেহেদী হাসান তাকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তারা একসঙ্গে মিরপুরে গিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঘোরাফেরা করেন। এরপর ফেব্রুয়ারির ২/৩ তারিখে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে মিরপুরে তার এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে সম্মতি আদায়ের পর তার সঙ্গে শা** সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার শা** সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই নারী এসআই অভিযোগ করেন, বর্তমানে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে মেহেদী হাসান বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে কর্মরত থাকায় চাকরির ভয়ে এত দিন বিষয়টি প্রকাশ করেননি। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং আশঙ্কা করছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা যেকোনো সময় তার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন।
লিখিত আবেদনে তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায়।