এম. আকতারুজ্জামান : বাংলাদেশের পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও তুলনামূলকভাবে আমদানি বৃদ্ধি পায়নি। আমদানিকৃত গ্যাসের মজুত শেষ হয়ে গেলে তীব্র সংকটে পড়েছে ভোক্তারা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্বল্প আয়ের জনসাধারণ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার। গাজীপুরসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এ সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। হোটেল রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ ক্ষুদ্র চা ব্যবসায়ীদের ৫ টাকা কাপের চা হঠাৎ ১০ টাকা হয়ে গেছে। তাই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী রং চায়ের দোকানে যেতেও ভয় পাচ্ছে।
দু একজন ডিলারের কাছে কিছু গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও ১২০০/- টাকার গ্যাস এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪০০/- টাকায়, যাহা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য মতে ২০২৩ সালের তুলুনায় ২০২৪ সনে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার টন। সূত্র বলছে ২০২৩ সনে এলপিজি আমদানি হয় ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সনে আমদানি হয় ২৬ লাখ ১০ হাজার টন। ২০২৫ সনে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। আমদানি বাড়ার কথা থাকলো আমদানি কমেছে ১০ শতাংশ। এতে করে যতটুকু মজুর থাকার কথা তাও বাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে এলপিজি গ্যাসের লাইসেন্স নিয়েছে ৫২ টি কোম্পানি। সিলিন্ডার গ্যাস ভরতে ৩২ কোম্পানির নিজস্ব প্লান রয়েছে। আর আমদানি করার সক্ষমতা রয়েছে ২৩ টি কোম্পানির । আর প্রতিমাসে রেগুলার আমদানি করছে ৮ টি কোম্পানি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ইরান থেকে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। চীনের মতো বড় দেশও এখন এলপিজি বাজার থেকে কিনছে। তাই এলপিজি ক্রয় করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গত নভেম্বর পর্যন্ত ১৭০ টি জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। গত ডিসেম্বরে আরো ২৯ টি জাহাজ নিষেধাজ্ঞ আওতায় পড়েছে। তারপরও আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে।
সংকট কাটাতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ফিলিপাইনের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব দেশ থেকে আমদানি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
এলপিজি গ্যাস সংকট নিয়ে ভোক্তা নজরুল ইসলাম বলেন – নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যাতে হুটহাট করে না বাড়াতে পারে এ ব্যাপারে সরকারকে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। সাথে সাথে দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে ঠুনকো অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত সরকারের। বাজার মনিটরিং ভালো ব্যবস্থা না থাকায় দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা মাঝে মাঝেই সুযোগ নিচ্ছে। আর তার বোঝা এসে পড়ছে সাধারণ জনগণের মাথায়। গ্যাস সংকটের প্রায় ১৫ দিন হতে চলল এখনো দ্রুত কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। সাধারণ জনগণ ক্রুদ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে।