শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে মামলা, আসামি ১৫০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের উসকানি ও নাশকতার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ২১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল, কার্যকরী সদস্য মজিবর, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাকিব হোসেন, ওয়াসিম, রতন, মো. রাকিব এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম। এ ছাড়া প্রজন্মলীগের ফতুল্লা থানা শাখার সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত জনিসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে এজাহারে।

এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবারের বিক্ষোভের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লামাপাড়া এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার মৃত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক শামীম জানান, গ্রেপ্তার ছয়জনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা পুনরায় জড়ো হয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করলে কঠোর অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শ্রমিকেরা মূল সড়কে আসতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তারা সড়ক অবরোধ করতে ব্যর্থ হন।

পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় বড় পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বুধবার সকালে এসব কারখানার শ্রমিকেরা কাজের উদ্দেশ্যে কারখানায় আসেন। কিন্তু কাজে যোগ না দিয়ে তারা সড়কে নেমে অবরোধ করার চেষ্টা চালান। আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথমে শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তারা পুলিশের কথা না শোনায় বাধ্য হয়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফলে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিতে পারেননি। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। শ্রমিকেরা যাতে সড়কে নেমে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে জন্য কোথাও তাদের জড়ো হতে দেওয়া হয়নি।

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
sharethis sharing button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *