সোহাগ রানা : মানবজাতির সেবায় জীবন উৎসর্গ, রোগীর স্বাস্থ্য ও মঙ্গলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং রোগীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে ২০২৬ সালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১ বছরের বাধ্যতামূলক (ইন্টার্নশিপ) অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কলেজের লেকচার গ্যালারি-১-এ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মেডিকেল কলেজের পড়ালেখা (MBBS) শেষ করে নতুন ডাক্তাররা যখন হাসপাতালে ১ বছরের বাধ্যতামূলক “ইন্টার্নশিপ” বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শুরু করেন, তখন তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্যই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জোবাইদা সুলতানা, ডা. মোহাম্মদ আলী আকবর পোলান, ডা. মো. আমিনুল ইসলাম এবং ডা. মো. কামরুল ইসলাম কামাল।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, এস এম মাহফুল হাসান হান্নান।
সভাপতিত্ব করেন কলেজের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ও ইন্টার্ন কো-অর্ডিনেটর (টিএ-৮ ব্যাচ) ডা. মোহাম্মদ খলিলুর রহমান।
বক্তারা বলেন, ইন্টার্নশিপ চিকিৎসকের পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ সময়ে অর্জিত চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের পাশাপাশি রোগীর সঙ্গে মানবিক আচরণ, পেশাগত দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা চর্চার সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ‘চিকিৎসা নীতিশাস্ত্রের ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। তাঁরা রোগীর স্বাস্থ্য ও মঙ্গলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, রোগীর স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদা সম্মান করা এবং মানব জীবনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রাখার অঙ্গীকার করেন।
ঘোষণাপত্রে বয়স, রোগ বা অক্ষমতা, ধর্মবিশ্বাস, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ, জাতীয়তা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বর্ণ, যৌন অভিমুখিতা ও সামাজিক অবস্থানসহ কোনো কারণে রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালনে বৈষম্য না করার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা। রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা, পেশাগত সততা বজায় রাখা, রোগীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকারও করেন নতুন চিকিৎসকেরা।
অনুষ্ঠানে ‘জেনেভা ঘোষণাপত্র’-এর আলোকে চিকিৎসা পেশার নৈতিক দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ১৯৪৮ সালে বিশ্ব চিকিৎসা সংস্থার সাধারণ পরিষদ ঘোষণাপত্রটি গ্রহণ করে; পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, চিকিৎসা পেশায় মেডিসিন, সার্জারি, চাইল্ড হেলথসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইন্টার্নদের এখন থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে এমবিবিএসের পর উচ্চশিক্ষা ও পোস্টগ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, চিকিৎসকের মূল দায়িত্ব মানুষের সেবা করা। করোনাভাইরাসের মতো সংকটের সময় দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। দেশের রোগীরা যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য না হন, সে লক্ষ্যে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জনবসতিতে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে নতুন চিকিৎসকদের নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।