ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :পাবনার ঈশ্বরদীতে ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে ঈশ্বরদী থানায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি এক নারী সহ ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজেকে ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি ঈশ্বরদী রেলস্টেশন থেকে যশোরে যাবেন, কিন্তু ট্রেন অনেক বিলম্ব থাকায় রেলস্টেশনে বিশ্রামের জন্য একটি রেস্ট রুমের ব্যবস্থার কথা বলেন। রেলস্টেশনে কোনো রেস্ট রুম নেই জানালে তিনি ডাকবাংলোয় রেস্ট রুমের ব্যবস্থা করে দেওয়ার সহযোগিতা চান। এরপর তিনি ঈশ্বরদী থেকে পুলিশ দিয়ে যশোরগামী ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
একপর্যায়ে উক্ত ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে পুলিশের সন্দেহ হয়।
পরে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনো বিচারক নন; বরং ভুয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, তিনি ভুয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয়দানকারী; তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালত যশোরের সেরেস্তাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে চাকরিচ্যুত।
আটক ব্যক্তির নাম সৈয়দ জিয়া পীর মোহাম্মদ আলী (জিয়া)। তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, তিনি আগে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তিনি চাকরি হারান।
এদিকে ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানার হাজতে রয়েছেন।
থানা সূত্রে আরও জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ভুয়া সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার অপরাধে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-২, তারিখ: ১/৪/২৬ ইং।