মাহমুদুল হাসান : বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি দেখা গেছে যে কিছু মাঠ কর্মী Unilever Bangladesh Limited নাম ব্যবহার করে QR কোড বা লিংক শেয়ার করছে, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের মোবাইল নাম্বার এবং ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে “একটিভ” হতে বাধ্য হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রতিদিন একজন মাঠ কর্মী ৮৪০ টাকা বেতন পান। এটি নগদ, মোবাইল ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রদত্ত হতে পারে। সাধারণ জনগণের ধারণা, এই টাকা হয়তো শুধু মার্কেটিং খরচ—কিন্তু এটি মূলত তাদের কাজের জন্য নিয়মিত আয়ের উৎস।
মাঠে কাজ করা লোকেরা সরাসরি ইউনিলিভারের অফিসিয়াল প্রতিনিধি নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়, যারা কোম্পানির পক্ষে ক্যাম্পেইন চালায়। ফলে, সাধারণ মানুষ মূল কোম্পানি না দেখে “তাদের কর্মী” হিসেবে ভুল ধারণায় QR কোড একটিভ করে দিতে পারে।
কোম্পানির লাভ:
ডাটা কালেকশন: মোবাইল নাম্বার, অনুমতি, ইউজার এনগেজমেন্ট
টার্গেটেড প্রমোশন: প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য সঠিক অডিয়েন্স তৈরি
তৃতীয় পক্ষ/ভেন্ডরের লাভ:
কমিশন বা ফি: প্রতিটি একটিভ নাম্বার/লিংক থেকে আয়
মাঠ কর্মীর লাভ:
দৈনিক বেতন ৮৪০ টাকা
সহজভাবে বলা যায়, QR কোড শেয়ার করা এবং মানুষকে “একটিভ” করানো হচ্ছে ব্যবসার মূল উপায়, যেখানে সবাই কিছু না কিছু উপার্জন করছে—তবে সবচেয়ে বড় “লাভ” হচ্ছে কোম্পানি ও তৃতীয় পক্ষের।
কেনো এমন উদ্যোগ?
ডাটা কালেকশন এবং প্রমোশন: কোম্পানি চায় যত বেশি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ডাটাবেস তৈরি করতে।
ব্র্যান্ড সচেতনতা: নতুন প্রোডাক্ট বা ক্যাম্পেইন প্রচারের জন্য মানুষকে সক্রিয় করা।
তৃতীয় পক্ষের ব্যবসা: ভেন্ডররা এটি ব্যবহার করে কমিশন/ফি উপার্জন করে।
কেউ যদি বলছে “QR কোড একটিভ করো” বা “SMS/লিংক স্ক্যান করো”, তবে সরাসরি না করা নিরাপদ।
অজান্তে মোবাইল থেকে ছোট ছোট টাকা কেটে নেওয়া হতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্য ও নাম্বার “third party”-এর হাতে চলে যেতে পারে।
এটি শুধুমাত্র মার্কেটিং ক্যাম্পেইন নয়—একটি ব্যবসার চক্র, যেখানে কোম্পানি, তৃতীয় পক্ষ এবং মাঠ কর্মীরা প্রত্যেকে লাভ করে। সাধারণ জনগণকে সতর্ক হতে হবে যেন তারা অজান্তেই তাদের তথ্য বা টাকা হারায়।
প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে: ইউনিলিভার কি সত্যিই সরাসরি নিয়োগ দিয়েছে, নাকি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে চলছে? এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে নাগরিকদের নিরাপদ রাখার জন্য তারা কী পদক্ষেপ নেবে?