ফাইজা বাটনকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, দাবি কর্তৃপক্ষের

মোঃ আবু সাঈদ চৌধুরী : গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেডকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নানা তথ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব প্রচারণার অনেকটাই বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে কারখানাটির প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি মোটরসাইকেলযোগে কিছু ব্যক্তি কারখানার সামনে এসে নিজেদের বিএনপির এক শীর্ষ নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। তারা জানান, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কারখানার ঝুট অন্য কাউকে দেওয়া যাবে না। তবে এ সময় কারখানায় কোনো ধরনের হামলা, ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, মোটরসাইকেল বহরে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, তারা মোটরসাইকেলযোগে কারখানার সামনে অবস্থান নিলেও সেটি ছিল শান্তিপূর্ণ। পরে তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝুট ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অস্ত্রের মহড়া’ হিসেবে যে ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, সেটি তাদের নয় বলে দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, এটি অন্য কারও, এটি অন্য সময়ের অন্য একটি ঘটনার ভিডিও এবং বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
ওই নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে, বিশেষ করে গাজীপুর ও টঙ্গী এলাকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পলাতক বা প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে আঁতাত করছে। তাদের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিংবা আগের প্রভাবশালীদের সহায়তায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল বহরে থাকা কিছু ব্যক্তি কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বাধা দেন। পরে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে স্থান ত্যাগ করে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল ও তার চাচা মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা মো. সেলিমের নেতৃত্বে বিসিক শিল্পনগরীর প্রায় ১০টি কারখানার ঝুট ব্যবসায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল। একই সঙ্গে স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে বিএনপির নেতা সিরাজুল ইসলাম সাথী ও নুরুজ্জামানের প্রভাবেও এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান ঝুট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে নতুন করে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান বলেন, মোটরসাইকেল মহড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কোনো সংঘর্ষ হয়নি। অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com