সরজমিন (পর্ব-০১): উত্তরার ফুটপাত জুড়ে বসেছে শীতবস্ত্রের হাট : ব্যবসায়ীদের পোয়া বারো

বিশেষ সংবাদদাতা : রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরার ফুটপাত জুড়ে বসেছে শীতবস্ত্র বেচাকেনার হাট। দেশে গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা আগের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরা বিভাগের রাস্তা- ফুটপাতে বেড়েছে গরম কাপড় বেচাকেনার চাহিদা। এতে ফুটপাতের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে শীতের কাপড় বেচাকেনা। ব্যবসায়ীদের পোয়া বারো, টাকার ভাগ পায় কতিপয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতো টাকা যায় কোথায়? খবর সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্থ তথ্য সূত্রের।

গত বুধবার ও আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) উত্তরা বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ভিড় করেছেন ফুটপাতে বসা এসব সস্তা কাপড়ের দোকানগুলোতে। এই শীতে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত কেনাবেচা করেন দোকানিরা।

এ দিকে, দোকানিরাও কম দামের কাপড় নিয়ে বসেছেন ফুটপাতে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক, আজমপুর বাসস্ট্যান্ড, হাউজ বিল্ডিং, আব্দুল্লাহপুর, রাজলক্ষ্মী মার্কেট, জসিমউদদীন রোড, এয়ারপোর্ট (বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড), রেললাইন ও রেলওয়ে স্টেশন এর সামনে খালি জায়গা আর সড়কের দুই পাশে বসেছে নতুন ও পুরনো কাপড়ের হাট। এছাড়া উত্তরা ১, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ নং সেক্টর, সোনারগাঁও জনপদ রোড, দলিপাড়া, আহালিয়া, খালপাড়, বড় মসজিদ, গনকবরস্হান, ডিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশন, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস উত্তরা, রবীন্দ্র সরনী সড়ক, আজমপুর রেললাইন ও আব্দুল্লাহপুর বেরিবাধ সড়ক, পলওয়েল মার্কেট এর আশপাশের সড়কসহ ফুটপাত বাজারের দিকেই ঝুঁকে পড়ছেন অনেক ক্রেতারা।

দিবা রাত্রি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শীত থেকে রেহাই পেতে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ সকলেই কিনছেন শীতের কাপড়। তবে এসব ক্রেতাদের বেশির ভাগই নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। দেখে-শুনে কম দাম করে তারা কম দামের এসব নতুন এবং পুরনো কাপড় কিনছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে, উত্তরা মডেল টাউনের বিভিন্ন নামি-দামি মার্কেটগুলোতে বেচাকেনা কম বলছেন মার্কেট ব্যবসায়ী ও দোকানীরা। তারা ফুটপাত দখল মুক্ত করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট জোর দাবি জানান।

উত্তরার আজমপুরে ফুটপাতের দোকানে কাপড় কিনতে আসা ছদ্মনাম শাকিব নামে এক ব্যবসায়ী জানান, শীত নিবারণের জন্য প্রয়োজন গরম কাপড়। মার্কেটে কাপড়ের দাম বেশি। ফুটপাতে নতুন ও পুরনো কাপড়ের দাম তুলনামূলক কম, আর দেখতেও খুব ভালো। তাই ফুটপাতের কাপড়ের দোকানের কিনতে এসেছি। আমি একটি গেঞ্জি কিনেছি বলে জানিয়েছেন ওই ক্রেতা।

রাজলক্ষ্মী এলাকার ফুটপাতের দোকানি ছদ্মনাম মজনু ও রফিক এ প্রতিবেদককে জানান, এসব কাপড় আমরা পুরান ঢাকা ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ দোকানে করে বিক্রি করি। দাম কম হওয়াতে বেচাকেনা কম আর বেশি হচ্ছে। এ সময় শীত যতই বাড়বে এই কাপড়ের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন ওই দোকানি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরা ও তুরাগ এলাকাবাসীরা এ প্রতিবেদককে জানান, ঢাকা -১৮ আসনের উত্তরা ১, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫নং সেক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শতশত অবৈধ দোকানপাট ও ভ্যান গাড়িতে সয়লাব হয়ে গেছে। সড়ক, মহাসড়ক ও ৪/৫ টি ফ্লাইওভার ব্রিজ হকারদের দখলে চলে গেছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতা, সাঙ্গপাঙ্গ এবং কতিপয় কিছু ব্যক্তি দোকানীদের নিকট থেকে মাসোয়ারা সহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা নিচেছন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংসদীয় এ গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে প্রায় ২০ হাজার ফুটপাত গড়ে উঠেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউজ) এর পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে লোক দেখানো উচেছদ অভিযান চালানো হয়।

এব্যাপারে উত্তরা বিভাগে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠা সরকারি জায়গা ও ওয়ার্ক ওয়ে জবরদখল করে অবৈধ দোকানপাট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালানো জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউজ) এর চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ উপদেষ্টার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঢাকা -১৮ আসনের সর্বস্তরের জনগন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : উত্তরা বিভাগের ফুটপাত দখল- বেদখল, চাঁদাবাজী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত নিয়ে সরজমিন ধারাবাহিক প্রতিবেদন আগামীতে আসছে,,,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com