শেরপুরের শ্রীবরদীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙ্গে পরীক্ষা নিলেন ইউএনও

জেসমিন জাহান দিপ্তী, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার ৭৪০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৭২০ বিদ্যালয়েল শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলনে যখন শিক্ষকরা ব্যস্ত, তখন বাইরে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষারত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এমন সময় বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের তালা ভেঙ্গে পরীক্ষা শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ।

৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শ্রীবরদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণি কক্ষের তালা ভেঙ্গে পরীক্ষা শুরু করেন ইউএনও। ওই সময় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নূরনবী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর জেলার ৭৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বুধবার থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। বৃহস্পতিবারও ওই কর্মসূচি পালন অব্যাহত রাখেন তারা। তবে দাবি-দাওয়া আদায়ে সহকারি শিক্ষকদের আন্দোলন চলার পরও বেশির ভাগ স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা কোমল মতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌণে ১২টার দিকে শ্রীবরদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ইউএনও মনীষা আহমেদ ওই স্কুলে গিয়ে তালা ভেঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এদিকে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করে দাবি আদায়ের নামে শ্রেণি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও। শ্রীবরদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা অভিভাবকরা জানান হঠাৎ পরীক্ষা বন্ধ হওয়ায় শিশুরা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। শিক্ষকরা এতদিন দাবি জানানোর সময় পাননি। আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনার ক্ষতি করে কিসের আন্দোলন? সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তাদের এই আন্দোলন।

কোমলমতি শিশুদের জিম্মি করে শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছেন। সরকারকে কঠোর হতে হবে, বাচ্চাদের ক্ষতি হবে, আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবো তা হয় না। এসব শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।
তবে আন্দোলনরত সহকারি শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আগামি রবিবার থেকে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। আর সরকার দাবি মেনে নিলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাশে ফিরে যাবেন তারা।

শ্রীবরদীর ইউএনও মনীষা আহমেদ জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষকদের অবিলম্বে পরীক্ষায় ফেরার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মবিরতি বা শাটডাউন অব্যাহত থাকলে সরকারি চাকরি আইন, আচরণবিধি ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা চালুর ব্যবস্থা করেছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান বলেন, জেলার ৭৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২০ স্কুলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রীবরদী উপজেলার ২০টি স্কুলে পরীক্ষা হয়নি। আগামী রবিবার সকল স্কুলেই পরীক্ষা হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের শাটডাউন দেওয়ার আইনগত অধিকার নেই।

শেরপুরের সচেতন মহল মনে করছেন আন্দোলনরত বেশীরভাগ শিক্ষকরাই ফ্যাসিবাদ সরকার আমলের নিয়োগ প্রাপ্ত। তারা কোমল মতি শিক্ষার্থীদের নিয়া খেলায় নেমেছেন। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তি মূলক বরখাস্তসহ এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলী করলেই শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com