নিজস্ব প্রতিবেদক: দুবাই সিংগাপুরে বসেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন সিন্ডিকেট করতে চাচ্ছে পলাতক শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ডান হাত হিসাবে পরিচিত রুহুল আমিন স্বপন। তার হয়ে সব ধরনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তার আপন ভাই তাজুল ইসলাম, ভাগিনা আযম ও তাদের সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য আসলাম চৌধুরী।
শুধু যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কুক্ষিগত করতে স্বপন ও তার পলাতক দোসররা কখনো দুবাই, কখনো সিংগাপুর আবার কখনো মালয়েশিয়ায় বৈঠক করছেন তা নয়, তাদের ছক মোতাবেক যাতে আসন্ন বায়রা নির্বাচনে তাদের প্যানেল বিজয়ী হতে পারে সেই পরিকল্পনা ও নির্দেশনা ঢাকায় থাকা তাদের গ্রুপের কাছে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা একটি মিডিয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রচার করার কৌশল নিয়েছে স্বপন মনোনীত লোকজন। তাদের শেখানো সিন্ডিকেটের পক্ষের কথাগুলোই হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশনে প্রচারিত করার ব্যর্থ চেষ্টা চলছে বলেও প্রতিপক্ষ বায়রা সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।
যদিও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যাতে পুরনো সিন্ডিকেট ( স্বপন-নুর আলী-ফখরুল) আর নিয়ন্ত্রন করতে না পারে সে ব্যাপারে পরিস্কার বার্তা প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আগেই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললে সবার জন্যই খুলবে। কোন সিন্ডিকেটকে প্রশয় দেয়া হবে না।
এরপরও স্বপন এবং নুর আলী মিলেমিশে আবারো নতুন লাইসেন্সের মালিকদের নাম ব্যবহার করে সিন্ডিকেট করার পায়তারা চালাচ্ছেন বলে বায়রা সদস্যা জানতে পারছেন। তবে স্বপন গ্রুপের একজন সদস্য অভিযোগ করেন, এবার সিলভার সেলিম এবং ফখরুল ইসলাম গং সিন্ডিকেট বিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসন্ন বায়রা নির্বাচনে নিজেরাই বায়রা দখল করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করার পায়তারা চালাচ্ছেন। যা মোটেও হতে দেয়া হবে না।
উল্লেখ্য মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করার হোতা রুহুল আমিন স্বপন, শেখ সেলিমের ডান হাত হিসাবে পরিচিত গোপালগঞ্জের শেখ মোহাম্মাদ সাইদুর রহমান, আদিব এয়ারের মালিকসহ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে সিআইডির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। স্বপনের ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তিও সিআইডি ক্রোক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানও পাশাপাশি চলছে।
উল্লেখ্য,মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানী সিন্ডিকেট প্রধান স্বপনের ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানীর সিন্ডিকেটের প্রধান রুহুল আমিন (স্বপন) ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করেছে সিআইডি।
বুধবার (২০ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান
জসীম উদ্দিন বলেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি প্রেরনের উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেট করে ৮ হাজার কোটি টাকা আদায় পূর্বক আত্মসাৎ করে বাড়ী ও জমি কিনে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে এই সিন্ডিকেটের প্রধান রুহুল আমিন (স্বপন)। তিনি সম্পত্তির উক্তরূপ মালিকানা লাভ করে মানিলন্ডারিং এর অপরাধ করেছে।
তিনি বলেন, রুহুল আমিন (স্বপন) এর জনশক্তি রপ্তানীর প্রতিষ্ঠান ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নামীয় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বনানী ও উত্তরা এলাকার ৭টি দলিলের সর্বমোট জমির পরিমাণ- ২৩১ কাঠা, যার দলিল মূল্য ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এসব জমির উপর ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নামীয় প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অবকাঠামোসহ সর্বমোট ৫০০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সিআইডি, ঢাকার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা উক্ত সম্পত্তির উপর ক্রোকাদেশ দেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানীর সিন্ডিকেটের মূল হোতা রুহুল আমিন (স্বপন) সহ সিন্ডিকেটের অপরাপর সদস্যদের বিরুদ্ধে সিআইডির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। মানিলন্ডারিং আইনে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।