স্টাফ রিপোর্টার : ভর্তি ফি নিয়ে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এক চরম অরাজকতা তৈরি হয়েছে। যৌক্তিকভাবে, পুনঃভর্তি হওয়ার কথা তখনই যখন কোনো শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল হয়। যেমন – স্কুল পরিবর্তন করা বা দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকা।
কিন্তু বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী কোনো বকেয়া না রেখে সাফল্যের সাথে পাস করে পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন পেলেও তাকে প্রতি বছর নতুন করে ভর্তি হতে হচ্ছে। সে তো স্কুলের বাইরে যায়নি, তাহলে কিসের ভিত্তিতে তাকে আবার ভর্তি হতে হবে? এটি সাধারণ অভিভাবকদের ওপর স্কুল কমিটিগুলোর চাপিয়ে দেওয়া এক নিরব চাঁদাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।
জানুয়ারি মাস মানেই নতুন ক্লাসের বাড়তি খরচ। নতুন বই, ড্রেস, জুতা, ব্যাগ আর স্টেশনারি কিনতেই হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর এই আকাশচুম্বী পুনঃভর্তি ফি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। বিশেষ করে যাদের দুই-তিনজন সন্তান স্কুলে পড়ে, তাদের জন্য এই খরচ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর বাসা ভাড়া বৃদ্ধি, অন্যদিকে স্কুলের এই জুলুম সাধারণ মানুষ যাবে কই? খাবার কিনবে, নাকি সন্তানের পড়ার খরচ চালাবে।
বিষয়টি অনেকটা এমন আপনি ঢাকা থেকে রংপুরের টিকেট কেটে বাসে উঠলেন। কিন্তু বাস চলতে শুরু করার পর প্রতি জেলা পার হতেই সুপারভাইজার এসে আপনার কাছে নতুন করে ভাড়া দাবি করছে। আপনি না পারছেন বাস থেকে নেমে যেতে, না পারছেন এই অবিচার মুখ বুজে সহ্য করতে। আপনি এখানে স্রেফ এক জিম্মি যাত্রী।
শিক্ষা কোনো ব্যবসা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। প্রতি বছর এই অযৌক্তিক ‘রি-অ্যাডমিশন’ বা পুনঃভর্তি ফি বন্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। তা না হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সন্তানদের শিক্ষিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।