মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল মনোহরদী নরসিংদী প্রতিনিধি :নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মনতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী মুকুল মিয়া জানান, তার প্রতিপক্ষ তারা মিয়া গং এর সঙ্গে প্রায় সাত বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ ধীরে ধীরে আইনি জটিলতায় রূপ নেয়।
মুকুল মিয়া অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর প্রতিপক্ষ নদীর পাড়ের জমিতে হামলা চালিয়ে ৬টি বাঁশঝাড়, ১০-১২ টি রেইনট্রি চারাগাছ এবং ২৫-৩০ টি কলাসহ কলাগাছ কেটে নিয়ে যায় এবং তার পানের বরজে কাজ করতে বাধা দেয়। এর ফলে মুকুল মিয়া জানান পানের বরজের জন্য কেনা ২-২.৫ লক্ষ টাকার সরন্জাম ক্ষতিগ্রস্হ হন। এছাড়া লটকন বাগান পরিষ্কার করার সময় বাগানে হামলা চালিয়ে, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারধর করেন ও একাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে এবং দা-কুড়াল নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছে। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক মুকুল মিয়ার জমির উপরে রাখা মাটির স্তুুপ কেটে বিকল্প তাদের চলাচলের রাস্তা থাকা স্বত্তেও ৮-১০ ফুট চওড়া রাস্তা তৈরীর মাধ্যমে জমি দখল করে।
তিনি আরও জানান, গত ৯ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে খিদিরপুর বাজারে আপোষনামা ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কথা বলতে গেলে বিবাদীপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালাগালি ও হুমকি দেয়। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি দরবার অনুষ্ঠিত হয়। ওই দরবারে উভয় পক্ষ আপোষ মীমাংসায় সম্মত হয়ে উপস্থিত সবার সামনে স্টেটমেন্টের মাধ্যমে মুচলেকা প্রদান করে এবং নিজ নিজ মামলা প্রত্যাহার করে নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেয়।এছাড়াও স্হানীয়রা আরও বলেন, তারা মিয়া গং নিজেদেরকে গরীব-অসহায় পরিচয় দিয়ে প্রশাসন ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছে সহানুভূতি নেওয়ার চেস্টা করেন, এবং প্রশাসন যখন সুষ্ঠু তদন্ত করে ও উক্ত তদন্ত যদি তাদের মনের মতো না হয় তবে পুলিশের বিরুদ্ধে উপরস্থ্য অভিযোগ দাখিল করে এবং উক্ত বিষয়ে তাদের মনের মতো করে রিপোর্ট করার চেস্টা করে থাকেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আপোষের সিদ্ধান্ত মানার পরও প্রতিপক্ষ তারা মিয়া গং পুনরায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এতে করে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।তারপরে তারা মিয়া গং মুকুল মিয়ার কলাবাগান থেকে ৪-৫ টি কলার ছরি নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মুকুল মিয়া গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মনোহরদী থানার আওতাধীন রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।তিনি আরও জানান, গত ৮ই মার্চ ভুক্তভোগী মুকুল মিয়া তার নামে আর.এস রেকর্ড ভুক্ত দখলীয় জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে খোকন মিয়া, আবুল কাশেম,হানিফা,ফয়সাল, সিরাজ মিয়া,তারা মিয়া, রাশিদা বেগম, মিনারা খাতুন,রাজিয়া,লাইজু বেগম, খালেদা ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫জন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ জমিতে কাজে বাঁধা প্রদান করেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়।পরবর্তীতে মুকুল মিয়া প্রাণভয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে আসে এবং রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র অভিযোগ দায়ের করেন।বর্তমানে ভুক্তভোগী মুকুল মিয়া ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।