টঙ্গী(গাজীপুর)প্রতিনিধি: অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় গাজীপুরের টঙ্গীতে খেয়াঘাটে নৌ-চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। বুধবার দুপুর বারোটার দিকে টঙ্গী বাজার এলাকার নৌঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা খেয়াঘাটের টুল বক্স ভেঙ্গে নদের পানিতে ফেলে দেয়।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়,প্রায় দশ মাস আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ) টঙ্গী বাজার খেয়াঘাটির ইজারা দেয়।ইজারা পান স্থানীয় টুটুল সরকার নামক একজন। নিয়ম অনুযায়ী খেয়াঘাটে নির্ধারিত মোট ভাড়া চার টাকা। এর মাঝে ইজারাদার দুই টাকা নৌকার মাঝি আদায় করবেন দুই টাকা। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মাঝি চাইলে দুই টাকার জায়গায় তিন টাকা নিতে পারবেন। সে হিসেবে ঘাটে নিয়ম মাফিক ভাড়া হবে ৫ টাকা। প্রায় দশ মাস যাবত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একবার নদ পার হলেই জনপ্রতি আদায় করা হতো দশ টাকা।প্রতিবার আসা যাওয়ায় খরচ হচ্ছে বিশ টাকা। ইজারাদার স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করলে হেনস্থার শিকার হতে হতো।
ইজারাদার টুটুল সরকার বলেন,আমি বিআইডব্লিউটিএ নিয়ম অনুযায়ী খেয়াঘাটটি ইজারা এনেছি।আমি নিজস্ব দুইটি ইঞ্জিন চলিত নৌকা দিয়ে লোকজনকে পারাপার করছি।স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আমার কাছে মাসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলো।আমি চাঁদা দিতে রাজি হইনি।গতকাল দুপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা শিশির সরকার,ডুবলি,মিন্টু ও বাহার সহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী খেয়া ঘাটের টুলবক্সটি ভেঙ্গে নদের পানিতে ফেলে দিয়ে নৌকা পারাপার বন্ধ করে দেয়। শতশত মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।আমি পুলিশকে জানিয়েছিলাম।পুলিশ কয়েক ঘন্টা পর খেয়া ঘাটে এসেছিল। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করবো।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শিশির সরকার বলেন,কেউ চাঁদা চায় নি।অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে খেয়া ঘাটে টুল বক্সটি নদীর পানিতে ফেলে দেয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররাও ছিল।খবর পেয়ে আমরা কয়েকজন খেয়া ঘাটে গিয়েছিলাম।
টঙ্গী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক সুব্রোত কুমারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওপাশ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরী পরিসেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো।ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেন নি।