ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট : ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় আজ সোমবার ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরের প্রধান তেল শোধনাগারে আগুন ধরে গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এ প্রচারিত ফুটেজে শোধনাগারটি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে এটি কি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নাকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ঘটেছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার স্থানটি বাজান তেল শোধনাগারের সংবেদনশীল অবকাঠামোর ভেতরে বা তার কাছাকাছি ছিল। এই শোধনাগারটি এর আগেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

এর আগের হামলাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারের আঘাতে শোধনাগারটির আংশিক ক্ষতি হয়েছিল ও সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছিল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “রিজার্ভ ও নিয়মিত বাহিনীসহ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো উত্তর ইসরায়েলের একটি সাইটের দিকে যাচ্ছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।”

ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদমাধ্যম মা’রিভ-কে জানিয়েছে, শোধনাগার কমপ্লেক্সের একটি পেট্রোল ট্যাঙ্কে আগুন জ্বলছে, যা থেকে ঘন ধোঁয়া তৈরি হচ্ছে। তবে বিপজ্জনক রাসায়নিক বা বিষাক্ত পদার্থের কোনো ঝুঁকি নেই। হাইফা পৌরসভা নিরাপত্তার খাতিরে শোধনাগারের পাশের বাসিন্দাদের জানলা বন্ধ রাখতে এবং বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে।

এর আগে রবিবার (২৯ মার্চ) ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের নেওত হোভাব শিল্পাঞ্চলে আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং সম্ভাব্য বিষাক্ত রাসায়নিক লিকেজের আশঙ্কা দেখা দেয়।

ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাসায়নিক লিকেজের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের নিকটবর্তী শহরগুলোর জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন-ইসরায়েলি অব্যাহত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা প্রতিশোধ নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com