মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল। মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দরগা বাজার এলাকায় অবস্থিত হযরত দোস্ত মাহমুদ (রহ.)-এর মাজারটি এ অঞ্চলের কয়েক শতাব্দীর পুরনো এক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের অভাবে এই পবিত্র স্থানটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে।
উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, লুটপাটের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ওরস ও মাহফিল থেকে দোকানপাট ও স্টল বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হলেও তার কোনো প্রভাব মাজারের উন্নয়নে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, বিগত বছরগুলোতে একটি প্রভাবশালী মহল মাজারের আয়ের টাকা উন্নয়নের কাজে ব্যয় না করে নিজেদের পকেটস্থ করেছে। এলাকাবাসীর মতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাজারের অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, যার ফলে মাজারটি আজ এক ভাঙাচোরা ঘরে পরিণত হয়েছে।
জমি ও সম্পদ নিয়ে বিতর্ক
মাজারের নিজস্ব জমি না থাকলেও ডালিয়া নামের এক মহিলার লিজ নেওয়া ২৫ শতাংশ জমি বর্তমানে মাজারের কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান পরিচালনা কমিটির খাদেম লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে মাজারে দানকৃত ইট ও মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মালামাল বিক্রির টাকা তিনজনের নামে যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে এবং দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, বিগত ২৭ বছর রাজনৈতিক কারণে তিনি মাজারের কাছে আসতে পারেননি।
অসামাজিক কর্মকাণ্ড রোধ ও সংস্কারের অঙ্গীকার
মাজার প্রাঙ্গণে অতীতে ঘটে যাওয়া মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। তবে বর্তমান খাদেম বাচ্চু মিয়া এবং পরিচালনা কমিটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এখন থেকে মাজার প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলও মাজারের ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষায় পাহারাদার হিসেবে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
মাজারের ঐতিহ্য রক্ষা, স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সোনালী ব্যাংক রামপুর বাজার শাখায় মাজারের অর্থ জমা রাখা এবং তা দিয়ে একটি আধুনিক ও উন্নত ধর্মীয় কমপ্লেক্স