ড্রাইভিং লাইসেন্স নাকি বিক্রয় কেন্দ্র? মিরপুর–১২ বিআরটিএতে প্রতিদিন লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ!

রাহিমা আক্তার মুক্তা: দেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ অদক্ষ ও অপেশাদার চালকদের হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স চলে যাওয়া। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)–এর মিরপুর–১২ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘিরে উঠেছে গুরুতর ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ।

প্রতিদিন লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ
গোপন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মিরপুর–১২ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ জন পরীক্ষার্থী ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায় করা হয়। সে হিসাবে দৈনিক ঘুষের অঙ্ক প্রায় ১ লাখ টাকা, মাসিক হিসাবে যা কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়।

সূত্রগুলো দাবি করছে, এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন—
মোটরযান পরিদর্শক হাফিজ।  ঢাকা মেট্রো–৩ লাইসেন্স শাখার সহকারী পরিচালক (এডি) মইনুল ইসলাম।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে দালালদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন আসে দপ্তরের ভেতর থেকেই। ফাইল অনুমোদন ও ফলাফল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর অনলাইনে ওই রোল নম্বরগুলো ‘পাস’ দেখানো হয় টাকার বিনিময়ে।

অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন— বহিরাগত দালাল বাবুল, সবুজ, সোহাগ, রতন, রুবেল, আবু তালেব, সাইদ, আব্দুল গণি, মতি, হাসানসহ শতাধিক দালাল।

দালাল চক্রের মূল সমন্বয়কারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে বারবার উঠে আসছে সাইদুর রহমান জীবন নামের এক ব্যক্তির নাম। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় প্রতিটি দালালি কার্যক্রমেই তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে এবং তিনিই পুরো নেটওয়ার্কটি সমন্বয় করেন।

নির্দিষ্ট তারিখের রোল নম্বর নিয়েও অভিযোগ
অভিযোগকারীরা কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখের পরীক্ষার রোল নম্বরের উদাহরণও দিয়েছেন, যেগুলো ঘুষের মাধ্যমে পাশ করানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
(এই তথ্যগুলো যাচাইযোগ্য প্রমাণের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।)

যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক দুর্নীতিই নয়—সরাসরি জনজীবনের নিরাপত্তার ওপর আঘাত। অদক্ষ চালকের হাতে লাইসেন্স মানেই আরও দুর্ঘটনা, আরও প্রাণহানি।

সূত্র জানায়, খুব শিগগিরই বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিশদ লিখিত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘুষ দিয়ে পাশ করা পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বরের তালিকাও প্রকাশ করা হতে পারে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদক এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com